বিপুল সংখ্যক জামিন আদেশে হাইকোর্টের ৩ বিচারপতির কাছে ব্যাখ্যা তলব
স্বল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক জামিনের আদেশ দেওয়ায় হাইকোর্টের তিন বিচারপতির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি: স্বল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক জামিনের আদেশ দেওয়ায় হাইকোর্টের তিন বিচারপতির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম, বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান এবং বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের কাছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, তিন বিচারপতিকে তিন দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে হবে কেন স্বল্প সময়ে এত বেশি সংখ্যক জামিন আদেশ দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা ও ডেপুটেশনে থাকা অতিরিক্ত জেলা জজ মো. মুয়াজ্জেম হোসেন ২৪ অক্টোবর হোয়াটসঅ্যাপ ও ফোনের মাধ্যমে নোটিশটি পাঠিয়ে দেন।
নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, জামিনের সময় তাঁরা দুই সদস্যের বেঞ্চে দায়িত্বে ছিলেন, বর্তমানে তাঁরা একক বেঞ্চে বিচারক হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর আসামিপক্ষের আইনজীবীদের তালিকা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল প্রশ্ন তুলেছেন, একজন বিচারক জামিন দিতে পারলেও চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে শত শত মামলার শুনানি ও আদেশ দেওয়া কতটা যৌক্তিক।
হাইকোর্টের অনলাইন কার্যতালিকা অনুযায়ী, ৪ সেপ্টেম্বর বিকেল ২টা থেকে ৪টা ১৫ মিনিটের মধ্যে বিচারপতি মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি কে. এম. রাশেদুজ্জামান রাজার বেঞ্চ ৬১১টি মামলায় জামিন মঞ্জুর করেন। ওই দিন তাঁদের বেঞ্চে মোট ১,১০৪টি আবেদন শুনানি হয় এবং ৭৬৮টি মামলায় আদেশ দেওয়া হয়।
এছাড়া, ২৪ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি ইউসুফ আবদুল্লাহ সুমনের অবকাশকালীন বেঞ্চ মাত্র তিন ঘণ্টায় ১,১৪১টি জামিন আদেশ মঞ্জুর করে। ওই দিন মোট ১,৬৫০টি আবেদন শুনানি হয় এবং ১,২২৮টি মামলায় রায় দেওয়া হয়।
আইনজীবী ও আদালতের কর্মকর্তাদের মতে, এই “গণজামিন” সুপ্রিম কোর্টের ভেতরে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষত ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের সময়ের সহিংসতার সঙ্গে জড়িত মামলাগুলোর আসামিদের অনেকেই এসব জামিনের সুবিধাভোগী।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মেহেদী হাসান জানান, এসব মামলার বেশিরভাগই গোপালগঞ্জ, ফরিদপুরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সংঘটিত সহিংসতা থেকে এসেছে, যেখানে একাধিক প্রাণহানি ও সরকারি স্থাপনা ধ্বংসের অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ একটি হত্যা মামলায় বিতর্কিত জামিন আদেশ দিলে সমালোচনার মুখে পড়েন। মামলাটি ছিল জুলাই অভ্যুত্থানের এক শহীদের মায়ের দায়ের করা। পরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সেই জামিন আদেশ স্থগিত করে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাইকোর্টের বিচারপতিদের এই ধরনের গণজামিন প্রথা আদালতের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। প্রধান বিচারপতির ব্যাখ্যা তলবের এই পদক্ষেপ তাই বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এমবি এইচআর

