জাতীয় চিড়িয়াখানায় ৬১ প্রাণী মৃত্যুর প্রহর গুনছে
জাতীয় চিড়িয়াখানার ৩৩ প্রজাতির ৬১টি প্রাণী স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রাণী এখন দুর্বল ও চলাফেরায় অক্ষম। তবুও দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে তাদের
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
জাতীয় চিড়িয়াখানার ৩৩ প্রজাতির ৬১টি প্রাণী স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রাণী এখন দুর্বল ও চলাফেরায় অক্ষম। তবুও দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে তাদের। একই সঙ্গে ১৪টি প্রাণী রয়েছে সঙ্গীহীন, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য ক্ষতিকর বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের হালনাগাদ তালিকায় দেখা যায়, বৃহৎ প্রাণী, মাংসাশী, ক্ষুদ্র স্তন্যপায়ী, সরীসৃপ ও পাখি—এই চার শাখায় মিলিয়ে ৬১টি প্রাণী আয়ুষ্কাল পার করেছে। এর মধ্যে পাখির সংখ্যাই বেশি।
উদাহরণ হিসেবে, ‘ওয়াটার বাক’ নামের একটি পুরুষ প্রাণীর বয়স এখন ২৩ বছর, যেখানে স্বাভাবিক আয়ু ১৫–১৮ বছর। স্ত্রী ওয়াটার বাকটির বয়স ২৬ বছর। আলোচিত এশিয়ান হাতি ‘কাজলতারা’-র বয়স ৬৬ বছর, যা তার প্রজাতির গড় আয়ুর কাছাকাছি। এছাড়া ৩০ বছরের এক গাধা, ২৮ বছরের গরিলা, ২৫ বছরের ইম্পালা ও ৫২ বছর বয়সী এক ঘড়িয়ালও এখনো বেঁচে আছে।
পাখিদের মধ্যেও দেখা গেছে বেশ কিছু অতিবয়সী সদস্য। ইমু পাখির স্বাভাবিক আয়ু ১২–১৫ বছর হলেও চিড়িয়াখানার তিনটি ইমুর বয়স ২৫ বছরের কাছাকাছি। হাড়গিলার বয়স ৪৩ বছর, ছোট পানকৌড়ির ৩৩ বছর এবং বেশ কয়েকটি ফ্লেমিংগো, উটপাখি ও কেশোয়ারি এখন বয়সজনিত দুর্বলতায় আক্রান্ত।
এছাড়া মৃত্যুর অপেক্ষায় আছে আফ্রিকান সাদা সিংহ, আফ্রিকান সিংহ, চিত্রা হায়েনা, ডোরাকাটা হায়েনা, মেছোবিড়াল, শিয়াল, ঘড়িয়াল ও কুমিরসহ আরও কয়েকটি প্রাণী।
জাতীয় চিড়িয়াখানায় বর্তমানে ১৪টি প্রাণী সঙ্গীহীন অবস্থায় আছে—যার মধ্যে রয়েছে আফ্রিকান গন্ডার, কেশোয়ারি, উল্লুক, ক্যাঙ্গারু, সারসক্রেন, হনুমান লেঙ্গুর, কুমির, কুলু বানর, কমন ইল্যান্ড, হামাদ্রিয়াস বেবুন ও আফ্রিকান সিংহ। এসব প্রাণী দীর্ঘদিন ধরে একা থাকায় অনেকেই আচরণগতভাবে অস্বাভাবিক হয়ে পড়ছে বলে জানাচ্ছেন কর্মকর্তারা।
তবে প্রাণীর ঘাটতি পূরণে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক কমিটি আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০০টি নতুন প্রাণী কেনার পরিকল্পনা অনুমোদনের প্রস্তাব দিয়েছে। চলতি অর্থবছরেই ৭৬টি প্রাণী কেনার প্রক্রিয়া শুরু হবে, যার মধ্যে রয়েছে জেব্রা, সিংহ, কেশোয়ারি, সারসক্রেন, কুমির, উল্লুক ও ভালুক।
জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানিয়েছেন, “আমরা আগামী পাঁচ বছরের একটি প্রাণী ক্রয় পরিকল্পনা তৈরি করেছি। ধাপে ধাপে নতুন প্রাণী যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি চিড়িয়াখানাকে আধুনিকায়নের জন্য একটি মহাপরিকল্পনাও অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চিড়িয়াখানার কাঠামো, পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আসবে, যা প্রাণীদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে।
এমবি এইচআর

