নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে বাড়ছে চাপ ও বিতর্ক

আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখন প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে ব্যস্ত সময় পার করছে। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির নানা দিক চূড়ান্তের পথে।

Oct 24, 2025 - 12:48
 0  2
নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে বাড়ছে চাপ ও বিতর্ক
ছবি, সংগৃহিত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখন প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে ব্যস্ত সময় পার করছে। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির নানা দিক চূড়ান্তের পথে। তবে ভোটের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চাপ ও বিতর্ক বাড়ছে।

বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি—এই তিন প্রধান রাজনৈতিক দল সরকারের নিরপেক্ষতা এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। গত ২১ ও ২২ অক্টোবর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে দলগুলো নির্বাচন কমিশন, মাঠ প্রশাসন এবং কয়েকজন উপদেষ্টার কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন ও গণভোটের সময় নিয়েও মতভেদ দেখা দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। তাদের মতে, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে সরকারের নিরপেক্ষতা প্রমাণে আরও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ মনে করেন, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা সরাসরি কোনো দলের অনুসারী নন। তবু যদি কোনো উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তা সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য নিরপেক্ষতার বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে অনাস্থা রাজনৈতিক জটিলতা বাড়িয়েছে। নির্বাচনের অল্প সময় বাকি থাকায় সব দলকে আস্থায় আনা এখন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।

বিএনপির সঙ্গে বৈঠকে দলটির পক্ষ থেকে দুই উপদেষ্টার বিরুদ্ধে আপত্তি জানানো হয় এবং প্রধান উপদেষ্টাকে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো’ নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। অন্যদিকে জামায়াতের প্রতিনিধি দল জানায়, প্রশাসনের বড় অংশ এখনো একটি বিশেষ দলের প্রভাবে কাজ করছে। এনসিপি নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের প্রস্তুতি ও নির্বাচন আয়োজনের মনোভাব ইতিবাচক হলেও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের অবসান ঘটানো জরুরি। এর জন্য উপদেষ্টা পরিষদ, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠন করতে হবে।

তাদের মতে, সব দলের আস্থা নিশ্চিত করেই কেবল একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে দেশ এগিয়ে যেতে পারবে।

এমবি এইচআর