‘ভিন্নমত’ বাদ পড়ায় বিতর্কে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশের খসড়া থেকে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমতের অংশ বাদ পড়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

Oct 30, 2025 - 13:23
 0  3
‘ভিন্নমত’ বাদ পড়ায় বিতর্কে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ
ছবি, সংগৃহিত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশের খসড়া থেকে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমতের অংশ বাদ পড়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিএনপি এ ঘটনাকে “প্রতারণা” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে, অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও কয়েকটি দল একে স্বাগত জানিয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরে জুলাই সনদ গৃহীত হয়, যেখানে বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাবে ভিন্নমতের উল্লেখ ছিল। কিন্তু পরে বাস্তবায়নের খসড়ায় তা বাদ দেওয়া হয়। বিএনপির অভিযোগ, সনদে ভিন্নমত লিপিবদ্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে জনগণ ও দলগুলোর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঐকমত্য কমিশন বলছে, রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী খসড়ায় ভিন্নমত রাখা হয়নি, তবে মূল সনদে তা সংরক্ষিত আছে। কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, সরকারই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে— কমিশনের আর কোনো মন্তব্য নেই।

জুলাই সনদে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৬১টিতেই কোনো না কোনো দলের ভিন্নমত রয়েছে। বামপন্থি দলগুলো সবচেয়ে বেশি নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, বিএনপি দিয়েছে ১৫টি, জামায়াত সাতটি এবং এনসিপি দুটি।

জামায়াত ও এনসিপির মতে, গণভোটে যদি কোনো প্রস্তাব পাস হয়, তাহলে নোট অব ডিসেন্টের আর গুরুত্ব থাকে না। তাদের ভাষায়, “গণভোটে ‘না’ ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা আছে, কিন্তু আদেশে ভিন্নমত রাখার নজির নেই।”

অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেন, “যে দলিলটি প্রকাশ করা হয়েছে, তা ১৭ অক্টোবর স্বাক্ষরিত দলিল নয়। এটি ঐকমত্য কমিশনের নিজেদের প্রস্তাব।” বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “ভিন্নমত বাদ দেওয়া মানে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।”

ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার জানিয়েছেন, ভিন্নমত না রাখার সিদ্ধান্ত এসেছে অচলাবস্থা নিরসনের প্রয়োজনে। তার ভাষায়, “সংলাপে ঐকমত্য না হওয়ায় কমিশন বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারণের এখতিয়ার নিয়েছে।”

খসড়ায় বলা হয়েছে, গণভোটে আদেশ অনুমোদিত হলে সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ একসঙ্গে কাজ করবে। তবে প্রথম খসড়ায় পরিষদের জন্য ৯ মাসের বাধ্যবাধকতা থাকলেও, দ্বিতীয় খসড়ায় তা বাদ দেওয়া হয়েছে।

জামায়াত ও এনসিপি প্রথম খসড়াকে সমর্থন জানালেও বিএনপি এটিকে “সংবিধান সংস্কারের নামে সংখ্যাগরিষ্ঠের একচ্ছত্র আধিপত্য” বলে অভিহিত করেছে।

গতকাল ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে আট খণ্ডে সাজানো পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হস্তান্তর করেছেন। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের বোধগম্য একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ বই আকারে প্রকাশ করার জন্য, যাতে নাগরিকরা সনদের মূল বিষয়গুলো সহজে বুঝতে পারেন।

এমবি এইচআর