পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক সখ্য: জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতি চরম ঝুঁকির মুখে
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর উদ্যোগকে দেশের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করেছেন নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষকরা।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর উদ্যোগকে দেশের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করেছেন নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ভারতের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত প্রতিরক্ষা ও সীমান্ত-সংক্রান্ত বৈঠক স্থগিত রেখে ধারাবাহিকভাবে পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তাদের ঢাকা সফর আঞ্চলিক ভারসাম্যে বিপজ্জনক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সম্প্রতি পাকিস্তানের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জার সফর এবং পরে একাধিক জ্যেষ্ঠ পাকিস্তানি কর্মকর্তার সদস্যদের উপস্থিতি সাধারণ দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ভারতের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে পাকিস্তানের প্রভাব বলয়ে অস্বাভাবিক প্রবেশ কৌশলগতভাবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হতে পারে। এতে বাংলাদেশ আঞ্চলিক শক্তি প্রতিযোগিতায় বড় শত্রু ব্লকের ‘গুটি’ হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পাকিস্তানের সামরিক এস্টাবলিশমেন্টের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়লে দেশে উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর সক্রিয়তা বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী AQIS, লস্কর-ই-তাইবা ও তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের মতো নিষিদ্ধ গোষ্ঠী সীমান্ত অঞ্চল ও তরুণদের মধ্যে মগজধোলাই কার্যক্রমে সক্রিয়। পাকিস্তানের সাথে ঘনিষ্ঠতা এগুলোকে বাংলাদেশে নেটওয়ার্ক বিস্তারের সুযোগ দিতে পারে—যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অশনিসংকেত।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় চীনের ভূমিকা অত্যন্ত স্পষ্ট। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সামরিক সরঞ্জামের প্রধান উৎস যেহেতু চীন, তাই চীন-পাকিস্তান অক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা দক্ষিণ এশিয়ার শক্তির ভারসাম্য বিপর্যস্ত করতে পারে। এতে বাংলাদেশ অনিচ্ছায় ভারতবিরোধী অক্ষের অংশ হয়ে পড়তে পারে, যা কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের পরিপন্থী এবং দীর্ঘমেয়াদে সার্বভৌমত্ব দুর্বল করার আশঙ্কা তৈরি করে।
রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হলে দেশের দুর্বল অর্থনীতি সবচেয়ে বড় আঘাত পাবে বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদরা। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ছাড়া বিনিয়োগে এগিয়ে আসেন না। পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে যদি জঙ্গিবাদ বা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ে, তবে বিদেশি বিনিয়োগ, রপ্তানি আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধস নামতে পারে।
কূটনৈতিক মহলের একটি অংশ মনে করছে, একপেশে পররাষ্ট্রনীতি বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদে সংকটে নিমজ্জিত করতে পারে। জাতীয় স্বার্থ উপেক্ষা করে পাকিস্তানের সঙ্গে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক সখ্য ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে একঘরে করে দিতে পারে এবং কূটনৈতিক স্বাধীনতা ক্ষয়ে যেতে পারে।
এমবি এইচআর

