প্রথম আলো–ডেইলি স্টার হামলা ছিল সংগঠিত, সরকার আগেই জানত: নূরুল কবীর
প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার ও ছায়ানট ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা সরকারের কোনো না কোনো অংশের মদদে বা প্রশ্রয়ে ঘটতে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার ও ছায়ানট ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা সরকারের কোনো না কোনো অংশের মদদে বা প্রশ্রয়ে ঘটতে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর। তিনি বলেন, এসব হামলা ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সংগঠিত, যার বিষয়ে আগাম ঘোষণা দেওয়া হলেও সরকার তা প্রতিরোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে দেশের সম্প্রচার সাংবাদিকদের সংগঠন ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) ষষ্ঠ সম্প্রচার সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নূরুল কবীর। সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
নূরুল কবীর বলেন, “পরিষ্কারভাবে আমরা জানি, প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ও ছায়ানটকে ধ্বংস করে দেওয়ার ঘোষণা এক দিন–দুই দিন আগেই দেওয়া হয়েছিল। কারা এই ঘোষণা দিয়েছে, দেশের মানুষ জানে, সরকারও জানে। এটি স্পষ্টতই ফৌজদারি অপরাধ। কিন্তু সরকার আগেই তাদের গ্রেপ্তার বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। এ কারণেই আমরা বলেছি, সরকারের কোনো না কোনো অংশ এই ঘটনাটি ঘটতে দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, একটি সংগঠিত শক্তি পরিকল্পিতভাবে এসব হামলা চালিয়েছে এবং ইতোমধ্যে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ও স্পষ্টভাবে পাওয়া যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে প্রথম আলোর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে পত্রিকাটির কার্যালয় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই রাতে দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়েও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। সংহতি জানাতে ডেইলি স্টার কার্যালয়ে গেলে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীরকে হেনস্তার ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনার পর দেশজুড়ে গণমাধ্যমকর্মী ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়। অনেকেই ঘটনাটিকে স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি হামলা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বিজেসির ষষ্ঠ সম্প্রচার সম্মেলনেও আলোচনায় ঘুরেফিরে এই হামলার প্রসঙ্গ উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিক শাহনাজ শারমিনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন সাবেক গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান ও ডেইলি স্টারের কনসালটিং এডিটর কামাল আহমেদ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সারা হোসেন, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বিজেসির উপদেষ্টা খায়রুল আনোয়ার, যমুনা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিজেসির ট্রাস্টি ফাহিম আহমেদ, বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের বাংলাদেশ প্রতিনিধি মো. আল মামুন, সাংবাদিক তালাত মামুন, ইলিয়াস হোসেন ও মিল্টন আনোয়ার।
এমবি এইচআর

