গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের ৫ নেতার পদত্যাগের ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক: গোপালগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের মুকসুদপুরের ওয়ার্ড পর্যায়ের পাঁচ নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। এ নিয়ে ১৮ নেতা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) রাতে মুকসুদপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তারা পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে ছয় আওয়ামী লীগ নেতার পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুকসুদপুর পৌর আওয়ামী লীগের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর মো. নিয়ামত খান।
তিনি বলেন, “আজ শুক্রবার থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমাদের আর কোনো সম্পর্ক নেই, ভবিষ্যতেও থাকবে না। তবে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় আমরা সব সময় অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবো। রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ চালিয়ে যাবো।”
পদত্যাগকারী নেতারা হলেন- মুকসুদপুর পৌর আওয়ামী লীগের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. জামাল হোসেন মুন্সী, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি পরিমল সাহা, সাধারণ সম্পাদক শান্ত সাহা, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সাবেক কাউন্সিলর মো. নিয়ামত খান, ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম ও আওয়ামী লীগ সমর্থক জয়ন্ত সাহা।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বিকেলে মুকসুদপুর উপজেলার ননীক্ষীর ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আট নেতা ননীক্ষীর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সংবাদ সম্মেলন করে দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
পদত্যাগী আট নেতা হলেন, ননীক্ষির ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মনোজ মল্লিক, কাজী মিজানুর রহমান, সহ-প্রচার সম্পাদক রাসেল শেখ, সদস্য স্বপন শেখ, একই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মো. নুর আলম মিয়া, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক সুবল রায়, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আক্কাস চোকদার ও ননীক্ষির ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জলিল কাজী।
সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগকারী আটজনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মনোজ মল্লিক। তিনি বলেন, “আমরা ননীক্ষীর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ শাখার সকল পদ থেকে স্বেচ্ছায় ও স্বজ্ঞানে পদত্যাগ করছি। আমরা আমাদের পদত্যাগপত্র দ্রুত মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেব।”
এ বিষয়ে মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক হায়দার হোসেন বলেন, “দলের সুসময়ে তারা অনেক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। তাদের মতো সুবিধাবাদী লোকের পদত্যাগে দলের কোনো ক্ষতি হবে না। কারণ তারা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ কোনো নেতা ছিলেন না।” এ সময় তিনি সকল নেতাকর্মীকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
ওই দিন ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগ করেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান সিকদার ।
এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১৮ নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
এমবি/এসআর