চট্টগ্রামে আ. লীগ কার্যালয় দখল বিতর্কে এনসিপি, দাবি ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থান’
চট্টগ্রামের নিউমার্কেট এলাকার দোস্ত বিল্ডিংয়ে অবস্থিত আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কার্যালয় ‘দখল’ নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে আলোচনায় এসেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের নিউমার্কেট এলাকার দোস্ত বিল্ডিংয়ে অবস্থিত আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কার্যালয় ‘দখল’ নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে আলোচনায় এসেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে এনসিপির দাবি, তারা কোনো কার্যালয় দখল করেনি, বরং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের গোপন নাশকতা প্রতিরোধে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থান’ নিয়েছে।
বুধবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের বিপ্লব উদ্যানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেন এনসিপির নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী মোহাম্মদ ইরফানুল হক। তিনি বলেন, ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ চট্টগ্রামে পুনরায় সংগঠিত হয়ে নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। গত ১৮ অক্টোবর শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে দোস্ত বিল্ডিংয়ে তাদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ তথ্য পাওয়ার পর আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় সেখানে যাই।’
এনসিপি নেতাদের দাবি, ভবনে প্রবেশের পর তারা আওয়ামী লীগের লিফলেট, নেতাদের ছবি, এবং থাকার ব্যবস্থার প্রমাণ পান। স্থানীয় বাসিন্দারাও জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি দলীয় কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার হচ্ছিল।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, “আমরা কোনো কার্যালয় দখল করিনি। স্থানীয়দের অনুরোধে এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থান থেকেই সেখানে প্রতীকীভাবে অবস্থান নিয়েছি। যতদিন রক্তে রক্ত থাকবে, দেশে কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান হতে দেব না।”
দলটির চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী মো. রাফসান জানি বলেন, ‘প্রশাসনকে জানালেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে গতকাল আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেখানে যাই। আমরা দখল নিতে যাইনি, বরং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবেই সেখানে অবস্থান নিয়েছি।’
আরেক যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মইনুদ্দিন বলেন, ‘ভবনটি আসলে পরিত্যক্ত সম্পত্তি। স্থানীয়দের অনুরোধেই আমরা সেখানে গিয়েছি। এটি স্থায়ী অফিস নয়, কেবল প্রতীকী অবস্থান।’
এনসিপি জানায়, অবস্থান নেওয়ার আগে ও পরে তারা কোতোয়ালি থানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে পুলিশ এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেয়নি।
ছবি ভাঙচুর ও ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ ইরফানুল হক বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের সময় অনেক ছাত্রলীগ কর্মী আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল। তাদের বর্তমান অবস্থানকে অতীত পরিচয়ের ভিত্তিতে ভুলভাবে বিচার করা ঠিক নয়।’
এনসিপি নেতাদের দাবি, তাদের এই পদক্ষেপ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অংশ এবং উদ্দেশ্য ছিল সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা।
এমবি এইচআর

