আ. লীগের মিছিল বেগবান হচ্ছে, দিশেহারা পুলিশ : মোস্তফা ফিরোজ

আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল এখন ক্রমেই বেগবান হচ্ছে এবং পুলিশ তাদের কার্যক্রম সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজ।

Oct 31, 2025 - 23:40
 0  5
আ. লীগের মিছিল বেগবান হচ্ছে, দিশেহারা পুলিশ : মোস্তফা ফিরোজ
ছবি, সংগৃহিত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি:

আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল এখন ক্রমেই বেগবান হচ্ছে এবং পুলিশ তাদের কার্যক্রম সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজ। শুক্রবার নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘ভয়েস বাংলা’–এর এক বিশ্লেষণে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মোস্তফা ফিরোজ বলেন, গত ১০ মাসে ডিএমপি প্রায় তিন হাজার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে, তবুও দলটির মিছিল থামানো যাচ্ছে না। ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় তারা ঝটিকা মিছিল করছে—যেভাবে একসময় বিএনপি–জামায়াত করত। “গলি থেকে হঠাৎ বের হয়ে মূল সড়কে ওঠে আবার মিলিয়ে যাচ্ছে—এই কৌশলে আওয়ামী লীগের মিছিল এখন নিয়মিত দৃশ্য,” বলেন তিনি।

তার মতে, সরকারের ভেতরে দুর্বলতা যত বাড়ছে এবং আওয়ামী বিরোধী দলগুলোর মধ্যে অনৈক্য যত গভীর হচ্ছে, আওয়ামী লীগের মাঠের কার্যক্রম তত জোরদার হচ্ছে। “আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল বড় হচ্ছে, তার মানে সরকারের জনপ্রিয়তা কমছে আর বিরোধী শক্তিগুলোর গ্রহণযোগ্যতা হ্রাস পাচ্ছে,” তিনি মন্তব্য করেন।

মোস্তফা ফিরোজ মনে করেন, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এখন নতুন উদ্যমে মাঠে নেমেছে—তাদের বিশ্বাস, গণঅভ্যুত্থানের মতো আন্দোলন করেই হয়তো একসময় পরিস্থিতি পাল্টানো সম্ভব হবে এবং তাদের নেত্রী ফিরে আসবেন।

তিনি আরও বলেন, “এই মুহূর্তে আওয়ামী বিরোধী শক্তিগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। চাঁদাবাজি, রাহাজানি বেড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের মনে এখন এমন ধারণা তৈরি হচ্ছে—আওয়ামী লীগের সময়ই নাকি তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল। এই মনোভাব থেকেই দলটির জনপ্রিয়তা ফের বাড়ছে।”

মোস্তফা ফিরোজ বলেন, “শেখ হাসিনা সর্বশেষ যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে। আওয়ামী লীগ যদি নির্বাচনে অংশ নিতে পারে, তারা সরকার গঠন না করলেও শক্তিশালী বিরোধীদল হিসেবে ফিরে আসবে—এমন বিশ্বাস এখন তাদের মধ্যে জেগেছে।”

শেষে তিনি মন্তব্য করেন, “অন্তর্বর্তী সরকার, বিএনপি ও জামায়াত এখন সেই ঝুঁকি নিতে পারছে না। যদি নিত, তবে দেখত যে তাদের জনপ্রিয়তা নিচের দিকে নামছে। এই মুহূর্তে মানুষের মনোভাব সরকারবিরোধী হলেও রাজনৈতিক বিকল্পের অভাবে পতিত স্বৈরাচারের গ্রহণযোগ্যতাই বাড়ছে।”

এমবি এইচআর