হিন্দু ভোটব্যাংকে ‘নজর’ জামায়াতের?
ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার উমেদপুর বাজারে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক অসংখ্য মানুষের উপস্থিতি নেই এমন খোলা সভায় স্থানীয় জামায়াত নেতারা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সক্রিয় প্রলুব্ধতা বাস্তবায়ন করছে—এই দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে বিভিন্ন প্রশ্ন ও উদ্বেগ উস্কে দিয়েছে।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার উমেদপুর বাজারে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক অসংখ্য মানুষের উপস্থিতি নেই এমন খোলা সভায় স্থানীয় জামায়াত নেতারা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সক্রিয় প্রলুব্ধতা বাস্তবায়ন করছে—এই দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে বিভিন্ন প্রশ্ন ও উদ্বেগ উস্কে দিয়েছে। ওই সভায় কয়েকজন সনাতন ধর্মাবলম্বী বেঞ্চে বসে অবস্থান করলে স্থানীয় জামায়াত কর্মী দলীয় লিফলেট বিতরণ করেন এবং জানান, এটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্য করে আয়োজিত একটি সভা।
উমেদপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. শওকত আলী বলেন, এ সভায় যাঁরা এসেছেন সবাই জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক। ‘‘আমরা কয়েক মাস ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে কাজ করছি।’’ তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে নির্দেশ আছে—ভিন্ন ধর্মের যারা আছেন, তাদের কাছে দলের রাজনৈতিক আহ্বান পৌঁছে দিতে হবে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, কেউ কেউ ‘নিরাপত্তার আশ্বাস’কে জামায়াতে যোগদানের প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তারা বলছেন, ৫ আগস্টের পর থেকে হিন্দু বসতিগুলোতে ভয়-আতঙ্ক বিরাজ করায় জামায়াত নেতারা এসে নিরাপত্তার কথা বলেছে, ফোন নম্বর সংগ্রহ করেছে এবং প্রয়োজনে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে—এমনটি অন্য কোনো সংগঠন থেকে তাদের কাছে কম পেয়েছেন বলেই তারা জামায়াতকে সমর্থন দিচ্ছেন।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, তাদের গঠনতন্ত্রে অমুসলিমদের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তির বিধান রয়েছে। তিনি বলেন, যারা জামায়াতে ‘‘আসতে আগ্রহী’’ এবং দলীয় শৃঙ্খলা, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, দেশাত্মবোধ ও অবৈধ উপার্জন না করার শর্ত মেনে চলবে—তারা তাদের ফোরামে কমিউনিটি লিডার হিসেবে কাজ করতে পারবেন। তবে মূল জামায়াত নেতৃত্বে মুসলিমদের মতো নেতৃত্বগত সুযোগ না থাকায় তারা স্থানীয় স্তরে তাদের কমিউনিটিতে দায়িত্ব পাবে—মিটিংয়ে ভোটচিহ্ন হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণও দেখা গেছে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংখ্যালঘু নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন—জামায়াতের এমন কৌশল কি আসলে সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক গঠন ছাড়া আর কিছু নয়? বাংলাদেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভোট গুরুত্বের কারণে নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে জামায়াত বলেই এই উদ্যোগ নিতে পারে। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংখ্যালঘুদের তারা ভোটব্যাংক হিসেবে নয়, নাগরিক হিসেবেই বিবেচনা করে—তারা পাশে দাঁড়াতে চায়।
বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ এবং অনেকে মনে করেন, কার্যকর ভূমিকা ও নেতৃত্বের সুযোগ না দিয়ে কেবল সদস্য করা বা সম্মেলন করা দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে না—এটি ভোটসংখ্যা বাড়ানোর কৌশল মাত্র। এছাড়া যারা অতীতে সংখ্যালঘু নির্যাতন বা হুমকির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া উচিত ছিল, তা নিয়ে জামায়াতের ভূমিকা যথেষ্ট স্পষ্ট নয়—ফলে কেবল সদস্যপদে অন্তর্ভুক্ত করলেই সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সমমর্যাদা নিশ্চিত হবে না বলে মন্তব্য করেন তারা।
স্থানীয় পর্যায়ের এই কর্মকাণ্ড ও কেন্দ্রীয় বক্তব্যের মধ্যে বাস্তব প্রভাব কতটুকু থাকবে, তা পরীক্ষার বিষয়। ভোটচিহ্ন, স্থানীয় সম্মেলন ও ‘সনাতনী কমিটি’ গঠনের সংবাদগুলো সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ায় সংশ্লিষ্ট শ্রেণি ও বিশ্লেষকরা তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
এমবি এইচআর

