এনসিপির নবগঠিত ৪১ সদস্যের কমিটি থেকে ২৩ জনের পদত্যাগ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির নোয়াখালী জেলা শাখার নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দফায় দফায় পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির নোয়াখালী জেলা শাখার নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দফায় দফায় পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার রাতে সংগঠনটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ৪১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন প্রকাশ করা হয়। কিন্তু প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে একে একে ২৩ জন নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
প্রথমে পদত্যাগ করেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াছিন আরাফাত। তার পরপরই যুগ্ম সদস্য সচিব–১ ব্যতীত অন্য সব যুগ্ম সদস্য সচিব, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিবসহ বেশ কয়েকজন পদধারী নেতা একযোগে পদত্যাগ করেন।
পদত্যাগকারীদের অভিযোগ, তৃণমূলের নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে লবিংয়ের ভিত্তিতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে প্রকৃত ত্যাগী ও মাঠের নেতারা উপেক্ষিত হয়েছেন।
একাধিক পদত্যাগকারী জানিয়েছেন, সংগঠনের প্রতি অনুগত থাকা সত্ত্বেও ‘অন্যায়ভাবে গঠিত কমিটিতে’ থেকে রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে আপস করা সম্ভব নয়। তাঁদের মধ্যে শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই আন্দোলনে আহত যোদ্ধারাও রয়েছেন। ফলে জেলা কমিটিতে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, যা আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয় নেতারা।
ইয়াছিন আরাফাত জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী হয়েও এখন নিজেরাই বৈষম্যের শিকার হয়েছেন তারা। তার দাবি, কেন্দ্রীয় নেতারা পছন্দের মানুষ দিয়ে কমিটি করেছেন বলেই পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। তিনি জানান, ৪১ সদস্যের কমিটি থেকে ২৩ জন পদত্যাগ করেছেন, যাদের মধ্যে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব, মুখ্য সংগঠক, শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই আহত যোদ্ধারাও রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, পদত্যাগকারীরা যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলন করে কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার পরিকল্পনা করছেন।
এদিকে কেন্দ্রীয় যুবশক্তির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, কমিটি গঠনের আগে ভাইভা নেয়া হলেও চূড়ান্ত কমিটি সে অনুযায়ী হয়নি। তাঁরা তৃণমূলের ক্ষোভের বিষয়টি অবগত আছেন এবং বিষয়টি কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন।
এমবি এইচআর

