প্রতীক–সংশোধনীতে জোটভিত্তিক নির্বাচনে চাপের মুখে বিএনপি
যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোকে নিয়ে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করতে গেলেও প্রতীক–সংক্রান্ত আরপিও সংশোধনীর কারণে বিব্রত অবস্থায় পড়েছে বিএনপি।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোকে নিয়ে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করতে গেলেও প্রতীক–সংক্রান্ত আরপিও সংশোধনীর কারণে বিব্রত অবস্থায় পড়েছে বিএনপি। সংশোধনী অনুযায়ী, জোট করলেও প্রতিটি নিবন্ধিত দলকে নিজস্ব প্রতীকে ভোট করতে হবে। ফলে ছোট দলগুলোর জয়ের সম্ভাবনা কমে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই বিএনপি সংশোধনী বাতিলের চাপ তৈরি করার চিন্তা করছে।
বিএনপির নিবন্ধিত মিত্র দলগুলোর মধ্যেও এ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি দল আরপিওর ২০ (১) ধারার সংশোধনী বাতিলের আবেদন জানিয়েছে। বিএনপিও চাইছে—জোটভুক্ত দলগুলোর পছন্দমতো প্রতীকে ভোট করার আগের বিধান পুনঃবহাল হোক।
এদিকে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের আসন বণ্টন নিয়েও চাপে আছে বিএনপি। দলের দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, শরিকদের চাহিদা অনুযায়ী আসন বরাদ্দের পাশাপাশি প্রতীক–সংক্রান্ত সমস্যার কারণে সমঝোতা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ছোট দলগুলোর জয়ের সম্ভাবনা কমে যাবে
বিএনপি মনে করছে, নিজস্ব প্রতীকে ভোট করলে ছোট দলগুলো জনপ্রিয়তা–সংকটের কারণে সহজে জয়লাভ করতে পারবে না। এতে জোটের সামগ্রিক ফল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই অভিমত যুগপৎ আন্দোলনের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীরও। তিনি বলেন, জোটবদ্ধ নির্বাচন করলে পরিচিত প্রতীকে ভোট করাই দলগুলোর গণতান্ত্রিক অধিকার।
বিএনপির নেতারা জানান, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে আরপিও সংশোধনের মাধ্যমে একটি বিশেষ দলকে সুবিধা দিতে চায়। যদিও এ সংশোধনীকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে আগে তর্ক-বিতর্ক হয়েছিল। বিএনপি চাইছিল জোটভুক্ত দলগুলো যাতে একে অপরের প্রতীকে ভোট করতে পারে, কিন্তু জামায়াত চাইছিল নিজস্ব প্রতীকেই নির্বাচন করতে।
অবশেষে সরকার সংশোধনী এনে জোটবদ্ধ নির্বাচনেও নিজস্ব প্রতীকে প্রার্থী করার বাধ্যবাধকতা যুক্ত করে।
কে লাভবান, কে ক্ষতিগ্রস্ত?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংশোধনী অনুযায়ী বিএনপির ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি। কারণ ছোট দলগুলো ধানের শীষ প্রতীকেই বেশি আস্থা রাখে। নিজস্ব প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে বিএনপির সহায়তা পেলেও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা না থাকায় তাদের জেতা কঠিন হয়ে যাবে।
বরং এতে জামায়াতসহ বিএনপির মিত্র একাধিক দল নির্বাচনী সুবিধা পেয়ে যেতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ মনে করেন, এই সংশোধনী বহুদলীয় গণতন্ত্রের পরিপন্থী। তাঁর ভাষায়, গণতান্ত্রিক চর্চায় প্রতীকের স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আসন ছাড়–বিতরণ নিয়ে BNP–শরিক সমীকরণ
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা যুগপৎ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা শরিক দলগুলোর নেতাদের রাজনৈতিক অবস্থান, ভবিষ্যৎ প্রয়োজনীয়তা ও জনপ্রিয়তা বিবেচনায় প্রার্থিতার তালিকা তৈরি করছেন। শরিকদের জন্য অন্তত ২৫টি আসন ছাড় দেওয়ার বিষয়টি ভাবা হচ্ছে।
এ ছাড়া এনসিপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গেও নির্বাচনী সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে।
জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনসহ আটটি দল যুগপৎ আন্দোলনে থাকলেও এটি আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী জোট কি না—তা এখনও পরিষ্কার নয়। তারা মনে করছে, প্রতীক–সংক্রান্ত বাধা তাদের ক্ষেত্রে তেমন সমস্যা তৈরি করবে না; কারণ প্রতীক নয়, পারস্পরিক সমন্বয়ই তাদের আসল শক্তি।
বিএনপির প্রধান দুশ্চিন্তা
ধানের শীষ প্রতীক ব্যবহার করতে না পারলে শরিকদের আসন জয়ের সম্ভাবনা কমে যাবে—এটাই বিএনপির সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। আবার জোটের প্রার্থী দেওয়া হলেও বিএনপির কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ালে সেটিও মিত্রদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এমবি এইচআর

