জন্মদিনে তারেক রহমান: নারীর নিরাপত্তায় পাঁচ দফা অঙ্গীকার

Nov 20, 2025 - 10:35
 0  2
জন্মদিনে তারেক রহমান: নারীর নিরাপত্তায় পাঁচ দফা অঙ্গীকার

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধি:

নিজের ৬১তম জন্মদিনে নারীর নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ডিজিটাল যুগ আজ মানুষের প্রতিদিনের কাজ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পর্যন্ত—সবকিছুই দ্রুত বদলে দিচ্ছে। সেই পরিবর্তনের গতি ও প্রভাব বাংলাদেশেও ব্যাপকভাবে অনুভূত হচ্ছে।

তিনি বলেন, অনেক সময় তিনি ও তার স্ত্রী ভাবেন—তাদের শৈশবের পৃথিবী এবং আজ তাদের মেয়ের সামনে থাকা পৃথিবী কতটা ভিন্ন। প্রযুক্তি নতুন সুযোগ তৈরি করেছে ঠিকই, কিন্তু ঝুঁকিও ততটাই বিস্তৃত হয়েছে।

তারেক রহমান মনে করেন, বাংলাদেশকে সামনে এগোতে হলে নারীকে ভয়ের মধ্যে রেখে কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব নয়। দেশের বহু নারী প্রতিদিনই শুধুমাত্র পড়াশোনা, কাজ, কথা বলা বা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার জন্য হয়রানি, হুমকি, বুলিং কিংবা সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছেন—যা একটি অসুস্থ ও অগ্রহণযোগ্য বাস্তবতা।

তিনি বলেন, “এটা সেই বাংলাদেশ নয়, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন আমরা দেখি। আমাদের কন্যা, মায়েরা, বোনেরা—কেউই ভয়ের মধ্যে বেঁচে থাকতে পারে না। নারীদের নিরাপদ হতে হবে—অনলাইনে ও অফলাইনে, ঘরে ও বাইরে, ব্যক্তিগত ও পেশাগত প্রতিটি পরিবেশে।”

এই বাস্তবতা বদলাতে বিএনপির যে পাঁচটি অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের স্বপ্ন রয়েছে, তা তিনি তুলে ধরেন—

প্রথমত, একটি জাতীয় অনলাইন সেফটি সিস্টেম—যেখানে সাইবার বুলিং, হুমকি, ভুয়া পরিচয় বা তথ্য ফাঁসের মতো ঘটনার অভিযোগ নারীরা সহজে জানাতে পারবেন। থাকবে ২৪/৭ হটলাইন, অনলাইন পোর্টাল ও প্রশিক্ষিত সাড়া-দাতা দলের সহায়তা। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলা ভাষায় কনটেন্ট মডারেশনও আরও শক্তিশালী হবে।

দ্বিতীয়ত, জনজীবনে থাকা নারীদের জন্য সুরক্ষা প্রোটোকল—যেখানে সাংবাদিক, শিক্ষার্থী, কর্মী বা কমিউনিটি নেত্রীদের নিরাপত্তার জন্য জাতীয় নির্দেশিকা ও দ্রুত আইনি-ডিজিটাল সহায়তার প্রক্রিয়া থাকবে।

তৃতীয়ত, ডিজিটাল নিরাপত্তা শিক্ষা—স্কুল-কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবহারিক ডিজিটাল সুরক্ষা শেখানোর ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তরুণরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অনলাইন দুনিয়ায় চলতে শিখতে পারে।

চতুর্থত, নারী নিরাপত্তায় কমিউনিটি-ভিত্তিক উদ্যোগ—নিরাপদ পরিবহন রুট, উন্নত স্ট্রিট লাইটিং, কমিউনিটি হেল্প ডেস্ক এবং ট্রমা-সেন্সিটিভ রেসপন্ডার গঠনসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পঞ্চমত, নারীর নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে বিশেষ জাতীয় কর্মসূচি—নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ, পরামর্শদাতা নেটওয়ার্ক এবং কর্মক্ষেত্রে শিশু পরিচর্যার বিস্তৃত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে নারীরা স্বাধীনভাবে নেতৃত্ব দিতে ও নিজেদের দক্ষতা বিকশিত করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, রাজনীতি, ধর্ম বা মতাদর্শ যাই হোক না কেন—একটি সত্যে সবাইকে এক হতে হবে: নারীরা যখন নিরাপদ, সমর্থিত ও ক্ষমতায়িত হন, তখন বাংলাদেশ অদম্য হয়ে ওঠে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এমন বাস্তবতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্ম নেওয়া তারেক রহমান সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে।

এমবি/এসআর