পদ ছাড়লেও সরকারি বাসভবন ছাড়েননি আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম

এক সপ্তাহ আগে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছেন দুই ছাত্র প্রতিনিধি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম। তবে এখনো তাঁরা সরকারি বাসভবন ছাড়েননি।

Dec 18, 2025 - 10:59
 0  2
পদ ছাড়লেও সরকারি বাসভবন ছাড়েননি আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম
ছবি সংগৃহীত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

এক সপ্তাহ আগে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছেন দুই ছাত্র প্রতিনিধি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম। তবে এখনো তাঁরা সরকারি বাসভবন ছাড়েননি। কবে নাগাদ বাসভবন ছাড়বেন, সে বিষয়েও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বশীল কেউ নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার পর্যন্ত পদত্যাগী দুই উপদেষ্টার কেউই সরকারি বাসভবন ত্যাগ করেননি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁদের পক্ষ থেকে কোনো যোগাযোগও করা হয়নি। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কালের কণ্ঠের পক্ষ থেকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁরা ফোন ধরেননি। প্রতিবেদকের পরিচয় উল্লেখ করে পাঠানো এসএমএসেরও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের বিদ্যমান নীতিমালায় মন্ত্রিসভার সদস্য বা জনপ্রতিনিধিরা পদত্যাগের পর কত দিনের মধ্যে সরকারি বাসভবন ছাড়বেন—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, সরকারি বাসভবন, গাড়ি বা অন্য কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া যাবে না।

অন্যদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর দুই মাস পর্যন্ত সরকারি বাসভবনে থাকার সুযোগ রয়েছে। সন্তানরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত থাকলে অতিরিক্ত চার মাস সময় পাওয়া যায়।

এর আগে গত ১০ ডিসেম্বর বিকেল ৫টার দিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম। প্রধান উপদেষ্টা তা গ্রহণ করেন। তখন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই এই পদত্যাগপত্র কার্যকর হবে।

পরদিন উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেন। পরে সন্ধ্যায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হলে তাঁদের পদত্যাগপত্র কার্যকর হয়।

আসিফ মাহমুদ ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের দিন থেকে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। অন্যদিকে মাহফুজ আলম গত বছরের ২৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পান এবং ১০ নভেম্বর উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন। প্রথমদিকে তাঁকে কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করলে মাহফুজ আলম তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

সব মিলিয়ে আসিফ মাহমুদ প্রায় ১৫ মাস এবং মাহফুজ আলম প্রায় ১৩ মাস উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির ঘোষণা আসে আসিফ মাহমুদের মাধ্যমে, যা শেখ হাসিনার সরকারের পতন ত্বরান্বিত করে। এ কারণে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রথম সফরে মাহফুজ আলমকে সফরসঙ্গী করেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে তাঁকে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে উপস্থাপন করা হলে বিষয়টি দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

এমবি এইচআর