“জামায়াতের বিরুদ্ধে এনসিপির আক্রমণ শিগগিরই থামবে না : ডা. জাহেদ উর রহমান”

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাহেদ উর রহমান মনে করেন, জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে আক্রমণাত্মক বক্তব্য বা অবস্থান থেকে তারা সহজে সরে আসবে না।

Oct 23, 2025 - 14:26
 0  2
“জামায়াতের বিরুদ্ধে এনসিপির আক্রমণ শিগগিরই থামবে না : ডা. জাহেদ উর রহমান”
ছবি-সংগৃহিত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাহেদ উর রহমান মনে করেন, জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে আক্রমণাত্মক বক্তব্য বা অবস্থান থেকে তারা সহজে সরে আসবে না।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) তার ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি বলেন, “রাজনীতির স্বার্থে যেহেতু তারা (এনসিপি) জামায়াতের বিরুদ্ধে নিজেকে প্রকাশ করেছেই, আক্রমণ সম্ভবত বন্ধ করবে না। সেটা তার রাজনীতির কারণেই করবে। তখন জামায়াতকে হয়তো প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে। তবে আমি ধারণা করি, এই ধরনের বালখিল্য আচরণ তারা আর করবে না।”

জামায়াতের সাম্প্রতিক অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, বিশেষ করে ছাত্রশিবিরের। সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনগুলোর ফল তাদের মাথা নষ্ট করে দিয়েছে। এখন তারা ধরাকে সরাজ্ঞান করার মতো অবস্থায় পৌঁছে গেছে, যা আমি ব্যক্তিগতভাবে খুবই ভুল সিদ্ধান্ত মনে করি।”

এনসিপির তরুণ নেতৃত্ব নিয়ে বিশ্লেষণ দিতে গিয়ে ডা. জাহেদ বলেন, “এই তরুণরা গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাদের বয়স ও অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতার কারণে তারা অ্যাগ্রেসিভ হয়ে উঠছে—এটা স্বাভাবিক। জেন-জি প্রজন্ম সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে বেড়ে উঠেছে; তাই তারা জানে কীভাবে বক্তব্য দিতে হয়, কীভাবে তা ছড়িয়ে দিতে হয়।”

নাহিদ ইসলামের স্ট্যাটাস নিয়ে জামায়াতের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও তিনি মন্তব্য করেন, “জামায়াতের প্রাথমিক স্টেটমেন্টটিই যথেষ্ট ছিল। সেটা আরও ফর্মাল হতে পারত। পুরনো দল হিসেবে তাদের সহনশীলতা দেখানো উচিত ছিল। নাহিদ ইসলাম কঠিন অভিযোগ করলেও কোনো বিদ্রুপাত্মক শব্দ ব্যবহার করেননি। কিন্তু জামায়াতের স্টেটমেন্টে তারা বিদ্রুপ করেছে, ফলে প্রতিক্রিয়া অনিবার্য ছিল।”

জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, “জামায়াত ও এনসিপি দীর্ঘ সময় ধরে পারস্পরিকভাবে একে অপরকে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে। এনসিপি চেয়েছে জামায়াতের জনবল ব্যবহার করে নিজেদের বড় দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে, আর জামায়াত চেয়েছে তরুণ নেতৃত্বকে সামনে এনে নিজেদের প্রভাব দেখাতে। কিন্তু এই দ্বন্দ্ব যত বাড়বে, তত তথ্য বেরিয়ে আসার আশঙ্কা থাকবে।”

শেষে তিনি বলেন, “আমি মনে করি জামায়াত ইতিমধ্যেই এক ভয়াবহ ভুল করে ফেলেছে। যদি তারা সেটা অনুধাবন করে, তাহলে হয়তো ভবিষ্যতে এনসিপির বিরুদ্ধে এমন আক্রমণ আর করবে না। তবে এনসিপির দিক থেকে আক্রমণ বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।”

এমবি এইচআর