ম্যানচেস্টার সিটির সবচেয়ে দামি ফুটবলার এখন ধারে এভারটনে
২০২১ সালে ক্লাব রেকর্ড ১০ কোটি (সে সময় প্রিমিয়ার লিগের রেকর্ড ট্রান্সফার ফি) পাউন্ডে অ্যাস্টন ভিলা থেকে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেন জ্যাক গ্রিলিশ। তখন সিটি ও ইংলিশ ফুটবলের ভবিষ্যৎ হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছিল তাঁকে।

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২১ সালে ক্লাব রেকর্ড ১০ কোটি (সে সময় প্রিমিয়ার লিগের রেকর্ড ট্রান্সফার ফি) পাউন্ডে অ্যাস্টন ভিলা থেকে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেন জ্যাক গ্রিলিশ। তখন সিটি ও ইংলিশ ফুটবলের ভবিষ্যৎ হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছিল তাঁকে। বিশেষ করে সিটি কোচ পেপ গার্দিওলার অধীন গ্রিলিশের সেরাটা দেখার অপেক্ষায় ছিলেন সবাই।
কিন্তু যে প্রত্যাশা নিয়ে গ্রিলিশকে সিটি কিনে এনেছিল, সেটা দীর্ঘ মেয়াদে পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন এই উইঙ্গার। দলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নিজেকে ধারাবাহিকভাবে মেলে ধরতেও ব্যর্থ হন গ্রিলিশ। পাশাপাশি চোট ও ফিটনেস সমস্যাও যথেষ্ট ভুগিয়েছে তাঁকে।
কদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়া ক্লাব বিশ্বকাপে সিটির স্কোয়াড থেকেও বাদ পড়েন গ্রিলিশ। আর এবার দলবদলে সিটিও ছাড়তে হচ্ছে তাঁকে। এক মৌসুমের চুক্তিতে ধারে গ্রিলিশ যোগ দিয়েছেন এভারটনে।
গ্রিলিশ অবশ্য সিটি থেকে এভারটনে গিয়ে হারিয়ে যাওয়াদের তালিকায় নাম লেখাতে চান না। নিজেকে ফিরে পেতে দাঁড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টাই করে যাচ্ছেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, গ্রিলিশ এই গ্রীষ্মে প্রতিদিনের সকালটা শুরু করছেন তিন মিনিটের আইস বাথ নিয়ে। এরপর সন্ধ্যায় নিয়ম করে ‘সউনা’ নেন।

শরীর ও মনকে সতেজ রাখতে এ কাজ করছেন তিনি। ম্যানচেস্টার সিটিতে খেলার সুযোগ কমে যাওয়ায় তিনি প্রাক্-মৌসুমে নিজেকে ফিট রাখার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন তাঁর লক্ষ্য এভারটনে ডেভিড ময়েসের দলে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাওয়া।
এভারটনে যোগ দেওয়ার পর গ্রিলিশ বলেছেন, ‘এভারটনে আসতে পেরে আমি উচ্ছ্বসিত। এটা আমার জন্য সত্যিই বড় বিষয়। দারুণ সমর্থক নিয়ে এটি এক দুর্দান্ত ক্লাব। ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলার পরই বুঝেছিলাম, আমার যাওয়ার জায়গা কেবল একটাই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এভারটন–সমর্থকদের অসংখ্য বার্তা পেয়েছি। এটিও এই ক্লাব বেছে নেওয়ার আরেকটি কারণ। সমর্থকদের ধন্যবাদ জানাতে চাই আগেই পাওয়া ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য। আশা করছি, মাঠে আমি এর প্রতিদান দিতে পারব এবং অবশ্যই দেব।’
এভারটন কোচ ডেভিড ময়েস বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা ওকে দলে নিচ্ছি একদম সঠিক সময়ে। ও অভিজ্ঞ এবং প্রিমিয়ার লিগের ধরনও সে ভালোভাবে বোঝে। আর আমরা সবাই জানি, সে কী মানের পারফরম্যান্স দিতে পারে। আমরা সবাই ওর সঙ্গে কাজ করতে মুখিয়ে আছি এবং ওকে সেরা রূপে খেলার মঞ্চ করে দিতে চাই।’

সিটিতে গ্রিলিশের সবচেয়ে উজ্জ্বল মুহূর্ত ছিল ‘ট্রেবল’ জয়ের পর উদ্যাপন। কিন্তু এরপর ধীরে ধীরে তিনি কোচ পেপ গার্দিওলার পরিকল্পনায় বাইরে চলে যান। গত মৌসুমে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সুযোগ পাননি, এমনকি মৌসুমের শেষ লিগ ম্যাচে স্কোয়াডেও ছিলেন না। তবে ক্লাব ও জাতীয় দলে জায়গা হারানোর পর তিনি ছুটি কাটালেও অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন। চেষ্টা করছেন দ্রুত নিজের সেরাটা ফিরে পাওয়ার।
এভারটনে গ্রিলিশ নিয়েছেন ১৮ নম্বর জার্সি, যা পরে এর আগে ক্লাবটিতে ওয়েইন রুনি ও পল গ্যাসকোয়েন খেলেছেন। গ্রিলিশ চান আবার আগের মতো ছন্দে ফিরতে, মাঠে নিজের সৃজনশীলতা ও দক্ষতা দেখাতে। এখন শুরু হতে যাওয়া নতুন মৌসুম গ্রিলিশ তাঁর ক্যারিয়ার পুনরুজ্জীবিত করতে পারেন কি না, সেটাই দেখার অপেক্ষা।
এমবি এইচআর