আতংকে ভীত নেতানিয়াহু! ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি গণহত্যার বিরুদ্ধে জোট বাঁধছে বিশ্ব
দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে গাজায় চালানো ইসরায়েলি আগ্রাসনে থমকে দাঁড়িয়েছে মানবতা, বিশ্ব বিবেক।

নিজস্ব প্রতিনিধি: কট্টর ইহুদিবাদী ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়হু যেনো রক্ত মাংসে গড়া মানুষ নয় বরং পুরোটাই নরপিশাচের ভিন্ন কিছুতে তৈরি এক কাপুরুষ। যুদ্ধ হয় অস্ত্রধারীদের সাথে কিন্তু সেখানে নির্বোধ বুদ্ধিহীন জানেয়ারের মত নিরীহ নিরস্ত্র মুসলামানদের ওপর গোলা বর্ষণ করেই যাচ্ছে কট্টর ইহুদীবাদী ইসরায়েলের সেনারা। এবার ফিলিস্তিনে চলতে থাকা গণহত্যার বিরুদ্ধে গাজাবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছে বিশ্বের ২৩টি দেশ। যার মধ্যে রয়েছে আমাদের বাংলাদেশও। ধীরে ধীরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জোট বাঁধছে বিশ্বের দেশগুলো। যা দেখে ভয়ে কাঁপন ধরেছে নেতানিয়াহুর।
তবে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো এখন পর্যন্ত চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জোট বাঁধা দেশগুলোর মধ্যে মুসলিম দেশের চেয়ে ইহুদি আর খ্রিষ্টান দেশের সংখ্যাই বেশি। এতেই যেনো প্রমাণ হয় পৃথিবীর মানবতা এখনো ধূলোয় লুটায়নি বরং বিশ্ব বিবেক আবারো নতুন করে জাগ্রত হচ্ছে অসহায় গাজাবাসীদের নরপিশাচ নেতানিয়াহুর হাত থেকে বাঁচাতে।
বাংলাদেশ ছাড়াও জোট বাঁধা দেশের তালিকায় রয়েছে, চীন-তুরস্কের মত পরাশক্তি দেশও। তাছাড়া আলজেরিয়া, বলিভিয়া, ব্রাজিল, চিলি, কিউবা, জিবুতি, হন্ডুরাস, ইন্দোনেশিয়া, আয়ারল্যান্ড, লেবানন, মালয়েশিয়া, নামিবিয়া, নিকারাগুয়া, ওমান, পর্তুগাল, স্পেন, কাতার, গ্রেনাডিনস, উরুগুয়ে আর ফিলিস্তিন রয়েছে এই তালিকায়। ল্যাটিন আমেরিকা থেকে শুরু করে আফ্রিকা সবাই এখন জাগ্রত ফিলিস্তিনের মুসলমানদের রক্ষায়।
আগামী ১৫ ও ১৬ জুলাই কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোটায় এই ২৩ দেশের সমন্বিত জোটের একটি বৈঠক অনুষ্টিত হবে। মূলত আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় ইসরাইলের দায়মুক্তির সংস্কৃতির অবসান ঘটানো এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করাই এই জোটের লক্ষ্য। এই জোট অনতিবিলম্বে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধে কাজ করবে একত্রিত হয়ে। ইতিমধ্যে এই জোটে বিশ্বের অন্য মুসলিম দেশগুলোসহ অন্যরাও অংশ নিতে আগ্রহ জানাচ্ছে, তারা যুক্ত হলে এই জোটের শক্তি আরও বাড়বে।
কলম্বিয়ায় অনুষ্টিত হতে যাওয়া এই সম্মেলনের আয়োজন করছে কলম্বিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। জানুয়ারিতে গঠিত এই গ্রুপ ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের পক্ষে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান ইসরায়েলি হামলায় গাজা উপত্যকায় নিহত হয়েছেন প্রায় ৫৮ হাজার ফিলিস্তিনি। লাখো মানুষ হয়েছেন বাস্তুচ্যুত আর খাবারের খোঁজে এখনো দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছেন ২০ হাজারেরও বেশি অসহায় নিরীহ বেসামরিক গাজাবাসী। বিশ্লেষকরা বলছে, ২৩ দেশের এই জোটের সাথে প্রভাবশালী অন্য দেশগুলো এগিয়ে আসলেই কেবল সম্ভব কট্টর ইহুদিবাদী ইসরায়েলকে গণহত্যার পথ থেকে থামানো আর ফিলিস্তিনকে একটি শান্তিপূর্ণ স্বাধীন দেশ উপহার দেওয়া।
এমবি/এইচআর