দিল্লি বিস্ফোরণে ঢাকার যোগসূত্রের দাবি ভারতের, অস্বীকার বাংলাদেশের
দিল্লির লালকেল্লা এলাকায় ১০ নভেম্বরের বিস্ফোরণে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করলেও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ক্রমশই এমন সব তথ্য পাচ্ছে যা ঢাকার সংশ্লিষ্টতার দিকে ইঙ্গিত করছে বলে দাবি করেছে তারা। বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত হওয়ার পর ভারত বহুমুখী তদন্ত শুরু করেছে।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
দিল্লির লালকেল্লা এলাকায় ১০ নভেম্বরের বিস্ফোরণে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করলেও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ক্রমশই এমন সব তথ্য পাচ্ছে যা ঢাকার সংশ্লিষ্টতার দিকে ইঙ্গিত করছে বলে দাবি করেছে তারা। বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত হওয়ার পর ভারত বহুমুখী তদন্ত শুরু করেছে।
ভারতের নিরাপত্তা সংস্থার দাবি, বিস্ফোরণের সূত্র পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীরভাবে জড়িত। পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তইয়েবার (এলইটি) শীর্ষ কমান্ডার সাইফুল্লাহ সাইফ বিস্ফোরণের কয়েক দিন আগে ঢাকার বনানীতে বাংলাদেশি জঙ্গি সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে যুক্ত হন। সেখানে ভারতজুড়ে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা ও পাকিস্তান থেকে সহায়তা পাওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দাবি ভারতের।
ঢাকায় বৈঠক, অংশ নেন সরকারি কর্মকর্তাও
অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে ঢাকার বনানীতে যে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে ভার্চ্যুয়ালি যোগ দেন সাইফ। সরাসরি উপস্থিত ছিলেন সাতজন—
-
নিষিদ্ধ সংগঠন হিজব-উত-তাহরিরের ঢাকা প্রধান জুবায়ের আহমেদ চৌধুরী
-
সাইফের ঘনিষ্ঠ ও মার্কাজি জমিয়তে আহলে হাদিসের সাধারণ সম্পাদক ইমতিসাম এলাহী জাহির
-
বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্রসচিব ড. নাসিরুল ঘানি
-
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সিইও ও হিজব-উত-তাহরিরের সমন্বয়ক মোহাম্মদ আজাজ
-
আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) উপপ্রধান হাফিজ শুজাদুল্লাহ ও হাফিজ আলী ফাজুল
-
বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ
বৈঠকে সাইফ ভারতবিরোধী বড় ধরনের হামলার নির্দেশনা দেন। ভারতীয় সংস্থার দাবি—বাংলাদেশ সরকারের দুই কর্মকর্তা ওই পরিকল্পনায় সরাসরি উপস্থিত থাকায় বিষয়টি উদ্বেগজনক।
মুর্শিদাবাদ হয়ে ভারতে প্রবেশ
ভারতীয় গোয়েন্দাদের দাবি, বৈঠকের পর বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদসহ একটি দল নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মুর্শিদাবাদ সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। সেখানে তারা পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন স্থানে হামলার প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু করে।
তারা অবস্থান নেয় বাংলাদেশি পলাতক আসামি ইকতিয়ার পরিচালিত একটি সেফহাউসে। ইকতিয়ার বাংলাদেশের ডিবি কর্মকর্তাকে হত্যার মামলায় অভিযুক্ত এবং বহুদিন ধরে এবিটি সদস্যদের লজিস্টিক সহায়তা দিয়ে আসছেন বলে দাবি তদন্তকারীদের।
তদন্তে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তান থেকে আসা কিছু সরঞ্জাম পশ্চিমবঙ্গেও পৌঁছেছিল, যা দিল্লি বিস্ফোরণে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।
গ্রেপ্তার ও তদন্ত তীব্রতর
শনিবার দিল্লি পুলিশ বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে হেফাজতে নিয়েছে। এর মধ্যে হরিয়ানার আল–ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই চিকিৎসকও রয়েছেন। একই সঙ্গে ইউজিসি ও এনএএসি–এর অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে দুটি এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ।
পাকিস্তানে সাইফের বক্তব্য
বিস্ফোরণের দশ দিন আগে পাকিস্তানের খাইরপুর তামিওয়ালিতে এক সমাবেশে সাইফ বলেন—
“হাফিজ সাঈদের ডানহাত এখন বাংলাদেশে। সে বাংলাদেশ হয়ে ভারতে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। লস্করের সদস্যরা পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। এখন আমেরিকাও আমাদের পাশে, আর বাংলাদেশও আবার পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছে।”
ভারতের দাবি—এই বক্তব্য সাইফের পরিকল্পনার সঙ্গে সাম্প্রতিক কার্যক্রমের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
অস্বীকার বাংলাদেশ সরকারের
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন—
“বাংলাদেশের মাটি ভারতের বিরুদ্ধে কোনো কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে না। এসব তথ্য ভিত্তিহীন।”
এমবি এইচআর

