মনোনয়ন বিতর্কে গলাচিপায় বিএনপি-গণ অধিকার সংঘর্ষে ৩১ জন আহত

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের চরশিবায় বিএনপি ও গণ অধিকার পরিষদের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩১ জন আহত হয়েছেন।

Nov 7, 2025 - 17:19
 0  11
মনোনয়ন বিতর্কে গলাচিপায় বিএনপি-গণ অধিকার সংঘর্ষে ৩১ জন আহত
ছবি-সংগৃহিত

মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের চরশিবায় বিএনপি ও গণ অধিকার পরিষদের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩১ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে দক্ষিণ কপালবেড়া খলিফা বাড়ির সামনের চৌরাস্তায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরশিবা সাংগঠনিক ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কমিটি গঠন উপলক্ষে গণ অধিকার পরিষদের একটি সভা চলছিল। সভা শেষে তারা মোটরসাইকেল শোডাউনসহ বাড়ি ফিরছিলেন। একই সময়ে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির মিছিল শেষে নেতাকর্মীরাও বাড়ি ফিরছিলেন। পথে দক্ষিণ কপালবেড়া চৌরাস্তা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উপস্থিতি ও বক্তব্য নিয়ে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরবর্তীতে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন যুবদলের নেতা ইলিয়াস রাঢ়ী, সবুজ রাঢ়ী, নূরনবী রাঢ়ী, হাসান রাঢ়ী, কুদ্দুস ব্যাপারীসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অন্তত নয়জন। অন্যদিকে গণ অধিকার পরিষদের আহতদের মধ্যে রয়েছেন যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল খলিফা, আজমির খলিফা, শাহাবুল খলিফা, আমেনা বেগম, নাঈম খলিফা ও নবীন খলিফা।

দুই পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করছে। আহত যুবদল নেতা ইলিয়াস রাঢ়ী বলেন, “আমরা মিছিল শেষে বাড়ি ফিরছিলাম, তখন গণ অধিকার পরিষদের কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়।” অন্যদিকে আহত আজমীরের মা আমেনা বেগম দাবি করেন, “আমার ছেলে গণ অধিকার পরিষদের সভা শেষে ফিরছিল, তখন বিএনপির লোকজন তাকে ও আমাকে মারধর করে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির মনোনয়ন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিএনপি এখনো পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের প্রার্থী ঘোষণা করেনি, ফলে দলীয় ও জোটের কর্মীদের মধ্যে মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে।

এদিকে রাত ১২টার দিকে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন এবং সকলকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “ঘটনাটি দুঃখজনক। আমরা চাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করুক।”

গলাচিপা থানার ওসি মো. আশাদুর রহমান জানান, “দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক প্রভাব বিস্তার নিয়েও তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এমবি এইচআর