আইসিসি ভোটাভুটিতে একঘরে বাংলাদেশ, পাশে দাঁড়ায়নি শ্রীলঙ্কাও
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পরিবর্তনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আইসিসির বোর্ড অব ডিরেক্টরসের ভোটাভুটিতে বাংলাদেশের প্রস্তাবের পক্ষে নিজেদের ভোট ছাড়া আর কোনো দেশের সমর্থন মেলেনি।
মেঘনাবার্তা প্রতিনিধিঃ
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পরিবর্তনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আইসিসির বোর্ড অব ডিরেক্টরসের ভোটাভুটিতে বাংলাদেশের প্রস্তাবের পক্ষে নিজেদের ভোট ছাড়া আর কোনো দেশের সমর্থন মেলেনি। এমনকি সম্ভাব্য গ্রুপসঙ্গী শ্রীলঙ্কাও বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়ায়নি।
বুধবার সন্ধ্যায় বিপিএলের কোয়ালিফায়ার টু ম্যাচ চলাকালে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের প্রেসিডেন্ট বক্সে বিসিবি কর্তাদের অস্বাভাবিক অনুপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পরে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের কক্ষে পাওয়া যায় কয়েকজন পরিচালককে। সেখানকার নীরবতা থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, আইসিসি সভার সিদ্ধান্ত বিসিবির জন্য সুখকর হয়নি।
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানান, মাত্র আধাঘণ্টার এক ভার্চুয়াল সভায় ভোটাভুটির মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় আইসিসি। প্রশ্ন ছিল—বাংলাদেশ তাদের গ্রুপের ম্যাচগুলো ভারতেই খেলবে, নাকি শ্রীলঙ্কায় গিয়ে খেলবে। ভোটাভুটিতে বাংলাদেশ নিজেদের ভোট পেয়েছে এবং পাকিস্তানের ভোটও তাদের পক্ষেই ছিল। তবে এর বাইরে আর কোনো দেশ বাংলাদেশের প্রস্তাব সমর্থন করেনি।
ভোটের আগে বাংলাদেশ ‘সি’ গ্রুপ থেকে সরে ‘বি’ গ্রুপে যাওয়ার আবেদন জানায় বিসিবি। ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড ও ওমান। আয়ারল্যান্ড বা জিম্বাবুয়ের জায়গায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আমিনুল ইসলামের যুক্তি ছিল, এতে লজিস্টিক জটিলতাও বাড়বে না, কারণ নির্ধারিত হোটেল ব্যবস্থাপনাই ব্যবহার করা যেত।
তবে আইসিসির সদস্য দেশগুলো সেই যুক্তিতে সাড়া দেয়নি। আমিনুল স্পষ্ট করে বলেন, “শ্রীলঙ্কাও চায়নি আমরা তাদের গ্রুপে যাই।” ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, ‘বি’ গ্রুপে অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি শ্রীলঙ্কাও সুপার এইটের বড় দাবিদার। সেই গ্রুপে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি লঙ্কানদের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করত। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার পরাজয়ের স্মৃতি তাদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে আমিনুল আরও জানান, কানাডার একটি স্বাধীন নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। এই প্রতিবেদনও বাংলাদেশের বিপক্ষে সিদ্ধান্ত যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে।
সব মিলিয়ে গ্রুপ পরিবর্তনে ব্যর্থ হওয়ায় এবার ভারতে থেকেই বিশ্বকাপ খেলতে হবে বাংলাদেশকে। অনেকের মতে, এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের এবারের বিশ্বকাপ যাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়ল।
এমবি এইচআর

